মুমিন কিভাবে আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়
আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার অঙ্গীকারই আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা। এর ফলস্বরূপ আল্লাহও তাঁর বান্দাকে ভালোবাসবেন।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন একটি সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালোবাসবে।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫৪)।
আল্লাহর ভালোবাসার গুরুত্ব
শায়খ আবদুল্লাহ বিন বাজ (রহ.) এক ফাতাওয়ায় বলেছেন, ‘মুমিনের জন্য আল্লাহকে হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসা ওয়াজিব। এই ভালোবাসা কোনো কিছুতেই কম হতে পারে না। সুতরাং আল্লাহই মুমিনের জীবনে সবচেয়ে প্রিয়। এবং আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার শর্ত হলো, তাঁর আনুগত্য করা, পাপ থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর রাসুল ও প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসা, আল্লাহর শত্রুদের ঘৃণা করা।’
১. আল্লাহর ভালোবাসা ঈমানের দাবি :
মুমিনের ঈমানের মূল দাবি হলো আল্লাহকে ভালোবাসা। আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায় : ১. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা অন্য সব কিছু থেকে বেশি হবে।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৪৯৮৭)।
২. আল্লাহর ভালোবাসা মুমিনের
আল্লাহকে অন্তরে ভালোবাসা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর যারা মুমিন তারা আল্লাহকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৬৫)।
৩. ঈমান ও আমলের প্রাণসত্তা :
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহ.) আল্লাহর ভালোবাসা সম্পর্কে বলেছেন, ‘আল্লাহর ভালোবাসায় অন্তরের শক্তি, আত্মার খোরাক এবং চোখের প্রশান্তি রয়েছে। এটা এমন শক্তি, যার অভাবে জীবনে সঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহর ভালোবাসাই ঈমান ও আমলের প্রাণসত্তা।’ (মাদারিজুস সালিকিন : ৩/৮)।
আল্লাহর ভালোবাসা লাভের উপায়
কোরআন ও হাদিসের আলোকে আল্লাহর ভালোবাসা লাভের কিছু উপায় উল্লেখ করা হলো-
১. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য :
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য আল্লাহর ভালোবাসা লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আল্লাহ বলেছেন, ‘বলুন! যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার আনুগত্য করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করবেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)
২. ভালো কাজ করা :
মহান আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সৎ কাজ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৫)।
৩. দেহ ও মনের পবিত্রতা অর্জন করা :
যারা পাপমুক্ত জীবনযাপন করে এবং পবিত্রতা অর্জন করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। দেহের পবিত্রতা বাহ্যিক নাপাকি থেকে মুক্ত থাকা এবং অন্তরের পবিত্রতা আল্লাহর কাছে তাওবা করা।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং তিনি পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২২২)।
৪. আল্লাহভীতি অর্জন করা :
যারা আল্লাহভীতি হৃদয়ে ধারণ করেন, তারা আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করতে পারেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৭৬)।
৫. আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা :
আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের একটি পথ। আল্লাহ বলেছেন, ‘অতঃপর তুমি যদি সংকল্প করো, তবে আল্লাহর ওপর নির্ভর করো, যারা আল্লাহর ওপর নির্ভর করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)।
৬. নফল ইবাদত করা :
নফল ইবাদত আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা লাভে সাহায্য করে। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘আমি যা কিছু আমার বান্দার ওপর ফরজ করেছি, তা দিয়ে কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না, তবে সে নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫০৩)
৭. ধৈর্য ধারণ করা :
ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করতে পারে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৬)।
৮. ন্যায়বিচার করা :
আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা ন্যায়বিচার করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৯)।
আল্লাহ সবাইকে তাঁর প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta