ইবাদতের পরিবেশে মুমিনদের ঈদ উদযাপন
ঈদ হলো আনন্দ এবং খুশির দিন। এক মাস রোজা রাখার পর ঈদ আসে জীবনে কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও সুখের বার্তা নিয়ে। রমজানের উপবাসের মাধ্যমে যে পরিশুদ্ধতা অর্জিত হয়, ঈদ সেই সাধনা ও আত্মশুদ্ধির ফল।
ঈদ শুধু দুনিয়ার আনন্দই নয়, এটি পরকালীন শান্তি ও মুক্তির অনুভূতি নিয়ে আসে। রমজানের শেষে, শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ ওঠার সাথে সাথে ঈদ আসে রোজাদারদের জন্য আনন্দের জোয়ার নিয়ে। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ধনী-গরিব, ছোট-বড়, সব বয়সী মানুষের মধ্যে।
ঈদ পালন করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যা ঈদের আগের রাতে করা উচিত। এগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
ঈদের আগে সদকাতুল ফিতর দেওয়া-
সদকাতুল ফিতর রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা রোজার ভুলত্রুটির জন্য পরিপূর্ণতা প্রদান করে। এটি রোজার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সদকা, যা ঈদের আগে দেওয়া উচিত।
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) সদকাতুল ফিতর আদায়কে ওয়াজিব করেছেন, এবং এর পরিমাণ হলো এক সা যব বা খেজুর। এটি সবার জন্য আবশ্যক। (বুখারি, হাদিস : ১৫১২)
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সদকাতুল ফিতর রোজাদারকে পরিশুদ্ধ করে এবং অভাবী মানুষের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করে।” (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬০৯)
নতুন চাঁদ দেখা এবং দোয়া পড়া-
শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখে দোয়া পড়া একটি সুন্নত কাজ। হজরত তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) এই দোয়া পড়তেন যখন নতুন চাঁদ দেখতেন- উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল য়ুমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম; রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫২৬)
অর্থ : “হে আল্লাহ! এ চাঁদকে ঈমান, শান্তি ও ইসলাম এবং আমাদের জন্য যা ভাল তা নিয়ে উদিত করুন।”
ঈদের রাতে নফল ইবাদত-
ঈদের রাত আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য একটি মহা সুযোগ। হাদিসে বর্ণিত আছে, আবু উমামা (রা.) থেকে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈদের রাতে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করবে, তার অন্তর কিয়ামতের কঠিন দিনে জীবিত থাকবে।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৮২)
ঈদের দিনে বিশেষ সুন্নত আমল-
এক. গোসল করা এবং পবিত্রতা অর্জন করা। ঈদের নামাজের আগে গোসল করা সুন্নত। (বুখারি : ১/১৩০)
দুই. ভালো ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা। (বায়হাকি, হাদিস : ৬৩৬৩)
তিন. ঈদগাহ যাওয়ার আগে কিছু খাবার খাওয়া। (বুখারি, হাদিস : ৯৫৩)
চার. ঈদগাহে যাওয়ার পথে তাকবির বলা। (সিলসিলাতুল আহাদিস আস সহিহাহ : ১৭১)
পাঁচ. ঈদগাহে যাওয়ার পথ পরিবর্তন করা। (সহিহুল বুখারি, হাদিস : ৯৮৬)
ছয়. ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া। (তিরমিজি, হাদিস : ১২৯৫)
সাত. শিশুদের ঈদগাহে নেওয়া। (সুনানে কুবরা বায়হাকি, হাদিস : ৬৩৪৯)
আট. ঈদের দিন একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো। (ফাতহুল কাদির : ২/৫১৭)
নয়. ঈদের খুতবা শোনা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৭৩)
দশ. ঈদগাহ থেকে ফিরে নফল ইবাদত করা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১২৯৩)
ঈদের এসব আমল আমাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেবে ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta