রিজিক বৃদ্ধির জন্য সকালের যে আমল করা উচিত
রিজিক আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়। তিনি আমাদের একমাত্র রিজিকদাতা। নবীজি আমাদের জীবনে সুখ ও শান্তি লাভের উপায় শিখিয়ে গেছেন। জানিয়েছেন কী করলে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ লাভ করা যাবে। কিন্তু মানুষ সেই সুখের সন্ধানে অনেক পথ খোঁজে।
মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
সুখী ও বরকতময় জীবন যাপনের জন্য নবীজি বিভিন্ন আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেও এসব আমল করতেন এবং উম্মতদের তা করতে উৎসাহিত করতেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের পর হালাল রিজিক কামনা করতেন।
এমন উপকারী জ্ঞান চাইতেন, যা মানুষের উপকারে আসে। আমল কবুলের জন্যও তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। এটি মূলত উম্মতের জন্য নবীজির দেওয়া এক বিশেষ নসিহত ও দোয়া। হাদিসে এসেছে-
হজরত উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের পর বলতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ ওয়া রিযকান তায়্যিবা ওয়া আমালান মুতাকাব্বিলা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিজিক ও কবুলযোগ্য আমল কামনা করছি। ’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)
আল্লাহ তার কিতাবে নুহ (আ.)-এর ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন, নুহ (আ.) তার সম্প্রদায়কে ইস্তিগফার করতে বলেন, যা তাদের জন্য রহমত ও বরকতের কারণ হয়। আল্লাহ বলেন,
فَقُلۡتُ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ اِنَّهٗ کَانَ غَفَّارًا یُّرۡسِلِ السَّمَآءَ عَلَیۡکُمۡ مِّدۡرَارًا وَّ یُمۡدِدۡکُمۡ بِاَمۡوَالٍ وَّ بَنِیۡنَ وَ یَجۡعَلۡ لَّکُمۡ جَنّٰتٍ وَّ یَجۡعَلۡ لَّکُمۡ اَنۡهٰرًا
আর বলেছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; তিনি দয়াবান। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি দেবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির বরকত দেবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদী প্রবাহিত করবেন। (সুরা নুহ: ১০-১২)
রিজিক বৃদ্ধির জন্য সংক্ষিপ্ত দোয়া
আস্তাগফিরুল্লাহ। আস্তাগফিরুল্লাহ। আস্তাগফিরুল্লাহ। আস্তাগফিরুল্লাহ। এটি খুব সহজ অথচ প্রভাবশালী দোয়া। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে যে শান্তি ও বরকত লাভ করা যায়, তা অনুভব করেই দেখা উচিত।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ তার সকল দুশ্চিন্তা দূর করে দেন, তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি। (আবু দাউদ)
অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার দারিদ্র্য দূর করবেন, বিপদ থেকে রক্ষা করবেন এবং সচ্ছলতা দান করবেন। সে এমন উৎস থেকে রিজিক পাবে যা সে কল্পনাও করেনি।
রাসুল (সা.) নিষ্পাপ ছিলেন, তবুও তিনি প্রতিদিন বহুবার ইস্তেগফার করতেন, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে দোয়া করতেন।
হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন ৭০ বারেরও বেশি ইস্তিগফার ও তাওবা করি।’ (বুখারি, হাদিস ৬৩০৭)
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta