ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে বাড়ছে আইফোনের দাম
আইফোন সাধারণত অন্যান্য মোবাইলের তুলনায় বেশি দামের কারণে একটি অভিজাত পণ্য হিসেবে পরিচিত। অনেকের ইচ্ছা থাকলেও উচ্চ দামের কারণে তারা আইফোন কিনতে পারেন না। তবে, এখন শিগগিরই আইফোন আরও দামী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কারণে আইফোনের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণা হওয়ার পরপরই ৩ এপ্রিল অ্যাপলের শেয়ার মূল্য ৯.৩ শতাংশ কমে যায়, যা ২০২০ সালের মার্চ মাসের পর সবচেয়ে বড় পতন। খবরটি জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
অর্থনীতি বিশ্লেষণকারী সংস্থা রোসেনব্লাট সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, যদি অ্যাপল শুল্ক বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে একটি নতুন মডেলের আইফোনের দাম ২ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ লাখ টাকা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চীনা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে প্রযুক্তি পণ্য, বিশেষ করে আইফোনের দাম বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, অধিকাংশ আইফোন এখনো চীনে তৈরি হয়, যা বর্তমানে ৫৪ শতাংশ শুল্কের আওতায় এসেছে।
এমন পরিস্থিতিতে অ্যাপলের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে- শুল্কজনিত খরচ নিজে বহন করা বা গ্রাহকদের ওপর চাপানো। রোজেনব্লাট সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকদের মতে, যদি অ্যাপল এই খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সের দাম প্রায় ২ হাজার ৩০০ ডলার হতে পারে, যা বর্তমানে ১ হাজার ৫৯৯ ডলার।
অন্যদিকে, আইফোন ১৬ এর বেস মডেল, যার বর্তমান দাম ৭৯৯ ডলার, তা ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১৪২ ডলার হতে পারে। এবং ফেব্রুয়ারিতে লঞ্চ হওয়া সস্তা মডেল আইফোন ১৬e এর দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ৮৫৬ ডলার হতে পারে।
যদিও অ্যাপল তার উৎপাদনের কিছু অংশ ভিয়েতনাম ও ভারতে স্থানান্তর করেছে, তাও শুল্কের আওতায় রয়েছে। চীনের ওপর ৫৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ এবং ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাপলের সাম্প্রতিক ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ফিচারগুলো যেমন নোটিফিকেশন সারাংশ, ইমেইল রিরাইট এবং চ্যাটজিপিটির ইন্টিগ্রেশন গ্রাহকদের আপগ্রেডের জন্য আকর্ষণীয় হয়নি, ফলে বিক্রির গতি ধীর হয়ে গেছে।
সিএফআরএ রিসার্চের বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো জিনো মন্তব্য করেছেন, আমরা মনে করি অ্যাপল সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করতে পারবে, এর বেশি হলে বিক্রিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে।
রোজেনব্লাট সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক বার্টন ক্রকেট বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে অ্যাপলের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, "আমরা ভাবতেও পারিনি যে ট্রাম্প এমন একটি আমেরিকান আইকনকে ধ্বংস করার মতো সিদ্ধান্ত নেবেন... কিন্তু বাস্তবতা খুবই কঠিন দেখাচ্ছে।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইফোনের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের জন্য বড় সুযোগ হতে পারে, কারণ তারা কম শুল্কের আওতায় রয়েছে।
অ্যাপল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু মন্তব্য করেনি। তবে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রভাবে প্রযুক্তি শিল্পের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানির সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ রয়েছে।
আরএস
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta