চিকেন'স নেক রক্ষা করতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সেনা মোতায়েন ভারত
ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগের একমাত্র স্থলপথটি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি চিকেন’স নেক হয়ে যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ভারতীয় অঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সমুদ্রে প্রবেশের বিষয়ে বাংলাদেশকে ‘একমাত্র অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপরই চিকেন’স নেক এলাকায় ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি এই অঞ্চলের কৌশলগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
এছাড়া, ধারণা করা হচ্ছে, আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে ব্যাংককে মোদির সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক হতে পারে। যদি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, এটি হবে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মোদির সঙ্গে ইউনূসের সরাসরি সাক্ষাৎ।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্য রয়েছে, যা ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই করিডর, যাকে ‘চিকেন’স নেক’ বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের সংকীর্ণ ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত করে এবং এর উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারত এই গুরুত্বপূর্ণ করিডরের নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডরকে তাদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যূহ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং তারা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ত্রিশক্তি কর্পসের সদর দপ্তর করিডরের কাছাকাছি শুকনায় অবস্থিত, যা অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।
ভারতের সেনাপ্রধান সম্প্রতি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘চিকেন’স নেক’ কোনো দুর্বল স্থান নয়, এটি ভারতের শক্তিশালী সামরিক অঞ্চল হিসেবে কাজ করে।’
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, এর মধ্যে মিগ বিমানের পাশাপাশি রাফাল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। করিডরে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি রেজিমেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া, আকাশপথে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা এবং এমআরএসএএম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
ভারত আঞ্চলিক স্তরে ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে সতর্ক রয়েছে এবং বাংলাদেশে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও তীক্ষ্ণ নজরদারি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার বেইজিংয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভারতীয় নিরাপত্তার জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষত শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে।
এমন পরিস্থিতিতে ভারত এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করেছে।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta