ঈদযাত্রায় মৃতের সংখ্যা অর্ধশত
ঈদযাত্রার সময় বিভিন্ন সড়কে অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া, আহতের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। এই খবর আমাদের প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে সাতজন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যান। গতকাল সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী তিনজন, শিশু দুজন এবং পুরুষ পাঁচজন রয়েছেন। মাইক্রোবাসটি কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস এবং থানা পুলিশ গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। এর আগেই, ঈদের দিন সোমবার সকালে চুনতি এলাকায় বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। এছাড়া, গত মঙ্গলবার একই স্থানে দুটি মাইক্রোবাস খাদে পড়ে আটজন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে, রিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। দুটি গাড়ি লোহাগাড়া চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের সাত যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান। আহত শিশু, যুবক ও তরুণীকে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাসযাত্রী মতিন মিয়া জানান, চট্টগ্রামমুখী রিলাক্স পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেশ কয়েকবার থামানোর চেষ্টা করে। এর মধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারমুখী মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের আট যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা যান।
লোহাগাড়া থানার অপারেশন অফিসার মোহাম্মদ জাহিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর চারজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে দুজন মারা যান।
এদিকে, লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের সেনের হাট এলাকায় ব্রিজে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মো. অনিক (১৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার সকালে ১১টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত অনিক ওই ইউনিয়নের নুরুল কবিরের ছেলে।
ঢাকা : রাজধানীর মতিঝিলে বিআরটিসি বাস কাউন্টারের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় ৬ নম্বর বাসের ধাক্কায় মো. রুহুল আমিন শেখ (৫৫) নামে এক নিরাপত্তাকর্মী মারা যান। তিনি পূর্ব বাসাবো স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। গত মঙ্গলবার বিকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রুহুল আমিন গাজীপুরের শ্রীপুর থানার নান্দাসাগর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
রুহুল আমিনের ছেলে মো. শাকিল জানান, তার বাবা পূর্ব বাসাবো স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিরাপত্তা দায়িত্ব শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। মতিঝিলে রাস্তা পার হওয়ার সময় ৬ নম্বর বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মতিঝিল থানার এসআই আবু সালেহ শাহিন জানান, বাসের চালক পালিয়ে গেলেও বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর কালুখালীতে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় সুজন শেখ (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের গঙ্গানন্দপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সুজন গঙ্গানন্দপুর গ্রামের লিয়াকত শেখের ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. লফিত মোল্লা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুজন রতনদিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সে গঙ্গানন্দপুর মোল্লাপাড়া ঈদগাহ মাঠে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। পথে তিনি মারা যান।
কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় সুজন শেখ নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া : ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে কুষ্টিয়ায় তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া সদর, খোকসা ও মিরপুর উপজেলায় এই দুর্ঘটনাগুলি ঘটে।
গতকাল সকালে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া এলাকায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় সিএনজিচালক রফজেল শেখ (৬৫) নিহত হন। তিনি ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহাদ আলী শেখের ছেলে।
হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, সিএনজিটি যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া যাচ্ছিল। এ সময় দৌলতপুর থেকে কুষ্টিয়া গিয়ে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেট কার সিএনজিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি সড়কে ছিটকে পড়লে চালক রফজেল শেখসহ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের জিলা স্কুলের সামনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা রাহাত ইসলাম পলাশ (৩০) ও ফাহিম অনিক (২৩) নিহত হন। তারা মামা-ভাগনে ছিলেন। এই ঘটনায় আহত হন তানভীর গণি (২৩) নামে এক যুবক, যাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশাররফ হোসেন জানান, পলাশ এবং অনিক মোটরসাইকেলে চা খেতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। তারা কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুত গতির একটি প্রাইভেট কার তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে অনিকের মৃত্যু হয়।
এর আগে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খোকসা উপজেলার বিলজানি বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মঈনুদ্দিন শেখ (৭০) নামের এক নির্মাণশ্রমিক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাদারীপুর :
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta