বিয়ে বাড়িতে বরকে গণপিটুনি, শেরওয়ানি পুড়ল আগুনে
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিজের বিয়ে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন শরীফ মাহমুদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তার শেরওয়ানি পুড়িয়ে দেয় এবং একটি চেকের মাধ্যমে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবুল হোসেন খান।
এটি ঘটেছিল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের কটামারা গ্রামে।
অভিযুক্ত শরীফ মাহমুদ বাঁশতৈল ইউনিয়নের উত্তর পেকুয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে পারিবারিকভাবে শরীফের বিয়ে ঠিক হয় এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। তবে শরীফের অন্য এক মেয়ের সঙ্গে প্রেম থাকায় তিনি বিয়েটি এড়ানোর চেষ্টা করছিলেন।
মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) শরীফের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর কনে পক্ষের এক সদস্য বরপক্ষের কথাবার্তা সন্দেহ করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর স্থানীয়রা বরসহ কয়েকজনকে আটকে গণধোলাই দেন।
বিক্ষুব্ধ জনতা শরীফের শেরওয়ানি খুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
পরে, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং দুই পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে বিয়ে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। কনে পক্ষের ৯ লাখ টাকা দেনমোহর এবং খোরপোষ বাবদ শর্ত আরোপ করা হয়। এর জন্য ১৮ লাখ টাকার একটি চেক শরীফের বাবা সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরে দেওয়া হয়। ৯ লাখ টাকা পরিশোধের পর চেকটি ফেরত দেওয়া হবে।
মুচলেকা দেওয়ার পর শরীফ মাহমুদকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কনের বাবা বলেন, "আমার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন ঘটনা যেন আর কারো সঙ্গে না ঘটে।"
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta