ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিমদের জিহাদে আহ্বান জানিয়ে ফতোয়া জারি
গাজায় দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কয়েকজন প্রখ্যাত মুসলিম বিশেষজ্ঞ একটি বিরল ধর্মীয় ফরমান বা ফতোয়া জারি করেছেন। এতে তারা সব মুসলিম ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার মিশরীয় ইসলামিক পণ্ডিত ইউসুফ আল-কারাদভীর নেতৃত্বাধীন ইসলামি সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (আইইউএমএস) মহাসচিব শেখ আলী আল-কারাদাঘি সমস্ত মুসলিম দেশকে অবিলম্বে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা ও ধ্বংস কার্যক্রম বন্ধ করতে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান।
শেখ আলী আল-কারাদাঘি শরিয়া, ফিকাহ এবং ইসলামী অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ। তিনি কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের আইনশাস্ত্রের অধ্যাপক। ইসরায়েলকে প্রতিহত করতে তিনি প্রায় ১৫ দফা ফরমান বা ফতোয়া জারি করেছেন।
ফতোয়ায় আলী আল-কারাদাঘি বলেন, গাজার জনগণের প্রতি আরব ও ইসলামি সরকারগুলোর সমর্থন দিতে ব্যর্থ হওয়া ইসলামী আইন অনুযায়ী বড় অন্যায়। গাজার মুসলমানদের নির্মূলের চেষ্টা করা কাফের শত্রু ইসরায়েলকে সমর্থন করা নিষিদ্ধ, তা যেকোনো ধরনের সমর্থনই হোক। ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রি বা তাদের জন্য অস্ত্র পরিবহন সহজতর করা নিষিদ্ধ।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের জারি করা ফতোয়ায় গাজার মুসলমানদের সমর্থনে দখলদার শত্রু (ইসরায়েল) জন্য আকাশ, স্থল ও সমুদ্র অবরোধের দাবি জানানো হয়েছে।
ফরমান বা ফতোয়া হল ধর্মীয় জ্ঞানে দক্ষ একজন সম্মানিত ব্যক্তির দেওয়া ইসলামী আইনি রায়, যা সাধারণত কুরআন বা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বাণী ও ইসলামী অনুশীলনের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়। আলী আল-কারাদাঘি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, এবং তার ফতোয়াগুলো পৃথিবীর ১৭০ কোটি সুন্নি মুসলিমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও ১৪ জন ইসলামিক পণ্ডিত কারাদাঘির ফতোয়াকে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা এমন মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সাথে ‘শান্তি চুক্তি’ পুনঃমূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান তারা।
গত জানুয়ারিতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বারবার যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু গত মাসে তিনি ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে সবুজ সংকেত দেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের পর থেকে এক হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে শত শত শিশু রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta