ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কে গাছ ফেলে দুই মাসে ৬টি ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়ক দিন দিন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কে গাছ ফেলে গত দুই মাসে অন্তত ৬টি ডাকাতি ঘটেছে। মুছাই পাহাড়ের আনারস, চা ও রাবার বাগানঘেরা এই সড়কটি বর্তমানে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, যদিও বাহুবল থানার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ি এবং শ্রীমঙ্গলের লছনা সাতগাঁও হাইওয়ে থানার অবস্থান সড়কের পাশে রয়েছে।
অতীতে সড়কটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি পুলিশ ফাঁড়ি ছিল, তবে বর্তমানে এটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। ফলে আশপাশের বাসিন্দা এবং চলাচলকারী যাত্রী ও শ্রমিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
যতবারই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি, যা পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয়রা তাদের ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করে, এতে ডাকাতরা নিরাপদে পালিয়ে যায়। লছনা হাইওয়ে পুলিশ পাহাড়ে টহল দেওয়ার কথা থাকলেও তারা মিরপুর চৌমুহনায় আড্ডা দেয়, অথচ লছনা থেকে কামাইছড়া পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার এবং কামাইছড়া থেকে মিরপুর ৬ কিলোমিটার দূরে।
সর্বশেষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে ১ এপ্রিল রাত ১টায়। কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ২০০ গজ দূরে মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কের ফিনলে চা বাগানের কাছে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল গাছ ফেলে যানবাহন আটকিয়ে লুটতরাজ চালায়। সশস্ত্র ডাকাতরা দুটি প্রাইভেটকার ও রুপসী বাংলা বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে।
এক ঘণ্টা ধরে চলা ডাকাতির সময় হবিগঞ্জ সিলেট বিরতিহীন ও ঢাকা সিলেট রুটের শ্যামলী ও হানিফ বাসে ডাকাতরা হামলা করেনি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, ডাকাতরা কামাইছড়া লামাবাজার ক্রস করে রশিদপুরের দিকে চলে গেলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে, ফিনলে চা বাগানের বাবু আব্দুস সালামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার অধীনে চা বাগানে কর্মরত পাহারাদাররা স্থানীয় কিছু ডাকাতকে চিহ্নিত করতে পারলেও তিনি তাদের তথ্য দিতে বিলম্ব করেছেন।
কামাইছড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুক মিয়া জানান, কামাইছড়া থেকে মুছাই পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি ডাকাতদের নিরাপদ সাফ জোন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, এক মাসের মধ্যে তিনবার এই সড়কে ডাকাতি হয়েছে।
বড়গাঁও গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম মনে করেন, বাহুবল ও চুনারুঘাট থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালালে অনেক ডাকাতকে আটক করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ওসি সাইফুর রহমান জানান, "ডাকাতির খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়।" তিনি আরও জানান, "চুনারুঘাটের রানীগাঁও ও আশেপাশের কিছু চোর-ডাকাত এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।"
কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এখলাছুর রহমান মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta