ঈদের তৃতীয় দিনে ১ লাখ ৫০ হাজার দর্শনার্থীতে জমে উঠল চিড়িয়াখানা।
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটনস্থলগুলোতে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন, যেটি সাধারণত থাকে। ঈদের প্রথম দুদিনের মতো তৃতীয় দিনেও (২ এপ্রিল) চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, বুধবার প্রায় দেড় লাখ মানুষ চিড়িয়াখানায় উপস্থিত হন।
সকাল ৯টা থেকেই চিড়িয়াখানার প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সময় যত বাড়ে, ভিড় ততই বেড়ে যায়। বিকেলের দিকে চিড়িয়াখানা জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে। যেন জায়গা পাবার মতো অবস্থা ছিল না। অনেকেই পরিবারসহ এসেছেন, কিছু লোক বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন। শিশুরা তাদের অভিভাবকদের সাথে থাকায় চিড়িয়াখানায় আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ চিড়িয়াখানায় বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, হরিণ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখতে আসেন। সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ। কেউ কেউ ক্যামেরা বা মোবাইল ফোনে পশু-পাখির ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং তা সামাজিক মাধ্যম যেমন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির মূল টিকিট কাউন্টারগুলো প্রায় ১০টি, তবে ঈদের সময় ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত কাউন্টার খোলা হয়েছিল। তবে, এর পরেও অনেককেই টিকিট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
প্রথমে রাস্তার সমস্যার পর, চিড়িয়াখানার সামনের অংশে হকারদের ভিড় এবং টিকিট কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে অনেক দর্শনার্থী ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাছাড়া, তীব্র গরম এবং ধুলার কারণে শিশুরা কষ্ট পায়। অনেকেই তাদের সন্তান নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঢুকলেও কিছু সময় পর আবার বেরিয়ে আসেন।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঈদের প্রথম দিন ৮০ হাজার এবং দ্বিতীয় দিন ১ লাখ ৫০ হাজার দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন। তিনি ধারণা করেন, তৃতীয় দিনও এক লাখ ৫০-৬০ হাজার দর্শনার্থী উপস্থিত হয়েছেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, চিড়িয়াখানায় পানির কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং তারা তা মোকাবেলা করার চেষ্টা করছেন। দর্শনার্থীদের চাপ বেশি থাকলে পানির সংকটও বেড়ে যায়, তবে সমস্যা সমাধানের জন্য তারা পানির গাড়ি ব্যবহার করে ঘুরে ঘুরে পানি ছিটাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দর্শনার্থীদের চাপ এবং গরম বেশি থাকার কারণে, প্রতিটি খাঁচায় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের জন্য কিছু জায়গায় খাবার পানি ও হাতমুখ ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, চিড়িয়াখানার বাইরের খাবারের দোকানগুলোতে বিশাল ভিড় দেখা গেছে। তবে, এসব দোকানে খাবারের দাম বেশ বেশি রাখা হয়েছে, যার কারণে অনেক দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তারা কর্তৃপক্ষের কাছে দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
চিড়িয়াখানার পাশে অবস্থিত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন) এদিন দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রচুর ভিড় ছিল। গত দুদিনেও দর্শনার্থীরা এখানে এসে কিছুটা সময় কাটান।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta