দুই দিনেও বাঁধ নির্মাণ শেষ হয়নি, ডুবে গেছে একের পর এক গ্রাম।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভাঙনের স্থানে দুই দিনেও বিকল্প রিং বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বিকল্প রিং বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি ঠিকাদার নিয়োগ করলেও কাজ শুরু করতে পারেননি তিনি।
এ পরিস্থিতিতে খোলপেটুয়া নদী থেকে নিয়মিত জোয়ার ভাটার কারণে ভাঙনকবলিত এলাকার ছয়টি গ্রামে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে চিংড়ি মাছের ঘের, বোরো ধানসহ ফসলি জমি। নিম্নাঞ্চলের পুকুরও ডুবে গেছে।
শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, ৫টি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে, আরও ৫টি গ্রাম আংশিক প্লাবিত হয়েছে। তিনটি গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন এবং বন্যার পানি থেকে রক্ষা পেতে বাঁধের উপরে রাত কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, মাছের ঘেরে লবণ পানি প্রবাহের জন্য বেড়িবাঁধে পাইপ বসানো হয়েছিল, যার ফলে বাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে গিয়ে হঠাৎ ধসে পড়ে।
এদিকে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণপদ পাল, পাউবো খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম, সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় পরিদর্শনে যান।
ভাঙন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের ভাঙন পয়েন্ট দিয়ে পানি খোলপেটুয়া নদীতে চলে যাচ্ছে এবং স্রোতের সঙ্গে ল্যান্ড সাইডের মাটি ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয়রা মাটি ও বালির বস্তা দিয়ে রিং বাঁধ তৈরির চেষ্টা করছেন।
আজ সকালে পুরুষরা বাঁধ সংস্কারে অংশ নিলেও, দুপুরের জোয়ার শুরু হলে পানি প্রবাহ আরও তীব্র হয়ে যায়। নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং অনেকেই গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে।
বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ জানান, যে স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙেছে, সেখানে দীর্ঘদিন থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ছিল এবং পাইপের কারণে বাঁধটি ধসে পড়েছে।
তিনি জানান, সোমবার ঈদের নামাজের সময় বাঁধ ভেঙে গেলে গ্রামবাসী দ্রুত চেষ্টা করলেও দুপুরের জোয়ারে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের মাঠেও নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছে এবং এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ায় বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
আনুলিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মো. রুহুল কদ্দুস জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঈদে মানুষ আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি এবং তার ইউনিয়নের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ভাঙন খুবই ভয়াবহ এবং দ্রুত মেরামত না করলে আরও ক্ষয়ক্ষতি হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাউবো খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম জানান, বাঁধের অবস্থা আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন সকালে বিছট গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় দেড়শ ফুট এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
ভাঙনে আনুলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, যার মধ্যে নয়াখালী গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta