পরে আমি জানতে পেরেছি, ডা. মারুফ ও তার দল মিরাকল সৃষ্টি করেছেন: তামিম
জীবনের এক কঠিন পরিস্থিতি পার করে বাসায় ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তামিম ইকবাল। হার্ট অ্যাটাকের পর পেয়ে যাওয়া সহযোগিতা, সমর্থন এবং ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাতে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিস্তারিত বার্তা দিয়ে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। কঠিন সময় পার করে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে ভুল করেননি দেশের সেরা ওপেনার।
তামিম ইকবালের সেই পোস্টটি পাঠকদের জন্য এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘আপনাদের সবার দোয়ায় ও আল্লাহর রহমতে আমি এখন বাসায়। গত চারটি দিন এক নতুন জীবন পাওয়ার পাশাপাশি চারপাশকেও নতুনভাবে দেখেছি। এই উপলব্ধিতে কেবল ভালোলাগা ও কৃতজ্ঞতা রয়েছে। ক্যারিয়ারজুড়ে আপনারা অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন, তবে এবার সেটি আরও বেশি অনুভব করেছি। আমি সত্যিই খুব কৃতজ্ঞ।’
বিকেএসপিতে আমার অসুস্থতার শুরু থেকেই অনেকেই পাশে ছিলেন। ম্যাচ রেফারি দেবু দা (দেবব্রত পাল), বিকেএসপির চিকিৎসকরা এবং আরও যারা তখন উপস্থিত ছিলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার ভাই যিনি আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেছেন, সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
আমাদের ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরী ডালিম ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই। আমি পরে শুনেছি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন যে, ডালিম ভাই যদি সঠিকভাবে সিপিআর না দিতেন, তাহলে হয়তো আমাকে বাঁচানো যেত না। আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে সঠিক সময়ে সঠিক মানুষদের পাশে রেখেছেন।
মোহামেডানের সাপোর্ট স্টাফ ওয়াসিমের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। শুরু থেকে এখনও সার্বক্ষণিকভাবে আমার পাশে থেকে সাহায্য করছেন।
কেপিজে হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান মারুফ ও তার দক্ষ চিকিৎসক দল পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করেছেন, যা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির প্রমাণ। পরবর্তীতে শুনেছি যে, দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডা. মারুফ ও তার দল একটি মিরাকল ঘটিয়েছেন।
গোটা চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কেপিজে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকাদের প্রতি আমার চিরকাল কৃতজ্ঞতা থাকবে। হাসপাতালটিতে যেই সময় কাটিয়েছি, তাদের আন্তরিকতার পরশ অনুভব করে যাব সবসময়।
ঢাকা শহরের বাইরে এমন উচ্চমানের হাসপাতাল ও দক্ষ চিকিৎসক দল থাকা আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। যদি দেশব্যাপী এমন মানের আরও কিছু হাসপাতাল তৈরি হয়, তাহলে আরো অনেক মানুষের জীবন রক্ষা পেতে পারে।
ধন্যবাদ জানানোর জন্য দীর্ঘ একটি তালিকা তৈরি করা সম্ভব নয়। আরো অনেকেই বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন, কিছু মানুষের নাম জানি, কিছু না জানলেও তাদের সবার প্রতি আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসার ঋণে আমি সারা জীবন আবদ্ধ।
সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পথ এখনও দীর্ঘ। আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রার্থনায় রাখবেন। সবার জীবন সুখী ও শান্তিপূর্ণ হোক। ভালোবাসা সবার জন্য।’
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta