আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে সার ও বিদ্যুতের ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এমন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে যা স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। মেগা বা মনোমেন্ট প্রকল্পের পরিকল্পনা থাকবে না।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা চাচ্ছি এবং আমি কোনও অবাস্তব আশ্বাস দেব না যা কার্যকর করা সম্ভব নয়। বাজেটে কিছু মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য থাকবে যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, ম্যাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাইভেট সেক্টরের বিষয়গুলো মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। আগের মতো বিস্তারিত ভূমিকা বা প্রাক্বাক্য থাকবে না, বরং বাজেটের মূল বিষয়গুলো সরাসরি তুলে ধরা হবে।
কর প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক সেবা প্রদান এবং দেশের কল্যাণে কর প্রদান করুন। কর দিতে হলে বাসার আলো নেভা বা জ্বলতে না পারার মতো বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না, কারণ কর দেশের উন্নতির জন্য। এছাড়া এবার কিছু শুল্ক সংশোধন এবং ডিজিটালাইজেশন করা হবে যাতে অফিসিয়াল কাজগুলো দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।
তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে এডিপি পর্যালোচনা করছি এবং মেগা প্রজেক্ট বাদ দিয়ে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম এমন প্রকল্পে জোর দিচ্ছি। এ ধরনের প্রকল্পগুলো বড় হলেও ৫০০-৬০০ কোটি টাকার হতে পারে এবং এসব প্রকল্পের মধ্যে অবকাঠামো, নদীশাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আইএমএফের ঋণ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিদেশি ঋণ নেয়া খুবই সীমিত হতে হবে, কারণ আমাদের ঋণ ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।
ডলারের দাম বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়, কারণ আমাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুব জরুরি।
আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, খারাপ ব্যাংকগুলোর অবসায়ন আইনের মাধ্যমে করা হবে, তবে গ্রাহকরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, তারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন।
উপদেষ্টা বলেন, সার এবং বিদ্যুতের ভর্তুকি চলতে থাকবে। কৃষি খাতে যে ভর্তুকি দেয়া হয়, তা তেমন বেশি নয়, তবে এটি অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ভ্যাট কমানো প্রয়োজন এবং একক ভ্যাট হার বাস্তবায়িত হলে তা আরও যৌক্তিক হতে পারে।
সম্পদ কর আরোপ বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এটি বাস্তবায়িত হতে পারে, তবে এ মুহূর্তে সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাগুলো হোল্ডিং ট্যাক্স সংগ্রহ করছে।
অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিয়ে বাজেট সংস্করণে প্রয়োজনীয় প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে। এডিপি সংশোধন করে দুই লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। বাজেট প্রণয়নের জন্য মন্ত্রণালয়গুলোর প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন।
আরএস
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta