এক পাঞ্জাবির মূল্য ৪ লাখ, শাড়ি দেড় লাখ- বিক্রেতাদের দাবি কি?
রাজধানীর একটি ফ্যাশন আউটলেটে একটি পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে চার লাখ টাকায়, অন্য একটি আউটলেটে শাড়ির দাম দেড় লাখ টাকা। এমন দাম থাকা সত্ত্বেও এসব পোশাক কেনা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, পাঞ্জাবি ও শাড়ির কী বিশেষত্ব রয়েছে যে, এত দামে বিক্রি হচ্ছে? আরও জানাচ্ছেন, এসব পাঞ্জাবি ও শাড়ির ক্রেতা কারা?
বিক্রেতাদের মতে, এসব পোশাকের উচ্চমূল্য হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে, উন্নতমানের কাপড় এবং দক্ষ কারিগরের কাজ। কেউ কেউ পারসেপশন ভ্যালুকেও দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখছেন।
তারা জানাচ্ছেন, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কলেজ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এসব দামি পোশাকের ক্রেতা। ২০১৭ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে এসব পোশাকের ক্রেতার মধ্যে রাজনৈতিক নেতা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা ছিলেন। তবে সরকার পতনের পর দামি পোশাকের বিক্রি কমে গেছে।
রাজধানীর বনানীর কিছু ফ্যাশন আউটলেট ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রিমিয়াম ফ্যাশন ব্র্যান্ড আনজারাতে ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৯৫ হাজার টাকায় পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। তাদের আউটলেটে কাফতান শাড়ির দাম ১৪ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।
অন্যদিকে, জেকে ফরেন ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি এবং থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকায়। এই দোকানে শাড়ির দাম ৩৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।
আনজারার জনসংযোগ ব্যবস্থাপক নওশিন নাওয়ার জানাচ্ছেন, তাদের পোশাকগুলোতে হাতে এমব্রয়ডারির কাজ করা হয় এবং এর সাথে ভালো মানের ফেব্রিক এবং নিখুঁত ডিজাইন রয়েছে, যা পোশাকের দাম বাড়ানোর কারণ।
বিক্রয়কর্মীরা জানান, ঈদ উৎসবের সময় ভারত ও পাকিস্তানি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা দেখা যায়। চাহিদা মেটাতে ব্র্যান্ডগুলো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে প্রিমিয়াম পোশাক আমদানি করেছিল।
তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দামি পোশাকের বিক্রিতে ধীরগতির কারণে মন্দা দেখা গেছে।
বনানীর আবায়া অ্যান্ড গাউন ব্র্যান্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ আবু সাঈদ সাদ্দাম জানান, তারা নিজেই এসব পোশাক তৈরি করেন এবং কিছু পণ্য দুবাই ও চীন থেকে আমদানি করেন।
দেশীয় ব্র্যান্ড কে ক্রাফটের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান মনে করেন, নিখুঁত ডিজাইন, ভালো ফেব্রিক এবং পারসেপশন ভ্যালু এই দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাপী মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে দাম নির্ধারণের কোনো লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক নেই, তবে বাংলাদেশে কিছু নিত্যপণ্যের দাম সরকার নির্ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, যদি কোনো ক্রেতা মনে করেন, তারা প্রতারিত হচ্ছেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া উচ্চমূল্যের পণ্য নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে এবং এসব পণ্যের দাম ন্যায্য কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিক্রেতারা স্পষ্টভাবে এর ব্যাখ্যা দিতে পারেন না। সরকারের নজরদারির অভাবে কিছু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিচ্ছেন।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta