রংপুর
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন বলেছেন, ‘প্রতি বছর ঈদের নামাজে আবু সাঈদকে নিয়ে একসাথে যেতাম। বাড়িতে ফিরলে একসাথে ইফতার করতাম। এবার সব কিছুই আছে, কিন্তু আবু সাঈদ নেই।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রতি ঈদেই কিছু না কিছু উপহার নিয়ে আসত। এবার কিছু আনবে না। এসব ভাবতেই মনটা ভারি হয়ে যায়। গত বছর পাঞ্জাবি এনেছিল, কিন্তু এবার সে আর পাঞ্জাবি আনবে না। পুলিশের গুলি আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।’ বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আবু সাঈদের গ্রামের বাড়ি পীরগঞ্জের জাফরপাড়া বাবনপুরে। গত বছর ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তিনি ছিলেন ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ। আবু সাঈদের মৃত্যু আন্দোলনকে আরো তীব্র করে তোলে এবং দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়, এবং এক পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। গত ১৮ আগস্ট আবু সাঈদের ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে ১৭ জনসহ অজ্ঞাত ১৩০-১৩৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। রমজান আলী ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘আবু সাঈদ ঈদের আগে বাড়িতে আসলে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হতো। ছোট ভাইবোনদের সাথে খেলাধুলা করত। সবার সাথে দেখা করে কুশল বিনিময় করত এবং মুরুব্বিদের কাছে দোয়া চাইত। আজ আর আবু সাঈদ নেই, এবার বাড়ি খালি খালি লাগছে। আমরা আবু সাঈদের অভাব অনুভব করছি। প্রতি বছর বাবার সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তে যেতাম, কিন্তু এবার তাকে ছাড়াই ঈদের নামাজ পড়তে হবে।’
আবু সাঈদের অপর ভাই আবু হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছর আবু সাঈদ রংপুর শহর থেকে পীরগঞ্জে আসলে আমাদের মধ্যে আনন্দের রোশনাই ছিল। কিন্তু এবার সেই আনন্দ নেই। আবু সাঈদের সাথে আমাদের অনেক বড় স্বপ্ন ছিল, লেখাপড়া শেষ করে বড় সরকারি চাকরি করবে, কিন্তু আমাদের সব আশা পুলিশের গুলিতে শেষ হয়ে গেছে। আবু সাঈদকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। শোক এখনও আমরা মেনে নিতে পারছি না।’ আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে তাঁকে সম্মানিত করার জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের নাম পরিবর্তন করে 'শহীদ আবু সাঈদ গেট' রাখা হয়েছে এবং সংলগ্ন চত্বরের নামকরণ করা হয়েছে 'শহীদ আবু সাঈদ চত্বর'।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta