হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রধান উপদেষ্টার সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য, যেগুলো ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত, তা নতুন করে আলোচনায় আসে। চীন সফরে তিনি এই সেভেন সিস্টার্সকে স্থলবেষ্টিত বলে উল্লেখ করে তাদের সমুদ্রপথে প্রবেশে বাংলাদেশকে ‘গার্ডিয়ান’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। প্রধান উপদেষ্টার এই মন্তব্যের পর ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বুধবার (২ এপ্রিল) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সমস্যা ও অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান তার বক্তব্য দেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এটি প্রথমবার বলেননি। ২০১২ সালে তিনি এমনই এক মন্তব্য করেছিলেন। ২০২৩ সালে, জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিশিদা নর্থ-ইস্ট ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশকে একটি একক অর্থনৈতিক অঞ্চলে আবদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা বলেন, যা ‘বিগ বি ইনিশিয়েটিভ’ নামে পরিচিত।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘আগেই বলেছি, কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ) এই অঞ্চলের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে, বিশেষত তাদের জন্য যারা সমুদ্রপথে প্রবেশ করতে পারে না। তবে আমরা কোনো চাপ প্রয়োগ করে কানেক্টিভিটি দিবো না। যদি কেউ নেবে, তবে ভালো, নাহলে কিছু করার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বলেছেন। যদি কেউ এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়, তা আমরা ঠেকাতে পারব না। তবে আমরা চাই, সবাই উপকৃত হোক এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হোক। যদি কেউ গ্রহণ করে, তবে ভালো, না হয় তা না হয়।’
আরেক প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা চীন সফর করছেন বা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কিছুই জিরো সাম গেম নয়, যে এক স্থানে গেলে অন্য স্থানে সম্পর্ক নষ্ট হবে। আমরা সব জায়গায় গিয়ে আমাদের সুবিধা ও পারস্পরিক সুবিধা অনুযায়ী যতটা সম্ভব এগোতে চাই, তাই আমরা সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কাউকে বাদ দিয়ে আমরা এগোতে চাই না।’
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta