বিষাক্ত পানীয় খেয়ে ২ জনের মৃত্যু, ৯ জন অসুস্থ
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ঈদের রাতে পিকনিকের সময় বিষাক্ত পানীয় পান করে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও কমপক্ষে ৯ জন।
৩১ মার্চ রাতে পিকনিকের সময় বিষাক্ত পানীয় খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১ এপ্রিল রাতে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে একজন এবং সাতক্ষীরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপরজন মারা যান। অসুস্থদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
মৃত্যুবরণকারীরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের মিত্র তেতুলিয়া গ্রামের জাফর আলী খাঁর ছেলে জাকির হোসেন টিটু (৩৮) এবং একই গ্রামের সোহরাব আলী গাজীর ছেলে মো. নাজমুল গাজী (২৬)। জাকির হোসেন টিটু কাদাকাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন।
এ ঘটনায় আরও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, ব্রাহ্মণ তেতুলিয়া গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে ফারুক হোসেন, মোকামখালী গ্রামের কুদ্দুস সরদারের ছেলে ইমরান, মিত্র তেতুলিয়ার মর্জিনা খাতুনের ছেলে ইকবাল, কামরুলের ছেলে লিফটন, আজিবার সরদারের ছেলে রবিউল, শহীদ গাজীর ছেলে তুহিন, আনিসের ছেলে নাজমুলসহ মোট নয়জন। তাদের মধ্যে ফারুক হোসেন ও ইমরানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ঈদের রাতে কাদাকাটি ইউনিয়নের তেতুলিয়া শশ্মানঘাট মাঠে পিকনিকের সময় জাকির হোসেন টিটু ও নাজমুল গাজীসহ মোট ১১ জন পানীয় পান করে ঘুমিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। রাত পৌনে ১২টার দিকে জাকির হোসেন টিটু আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মারা যান এবং নাজমুল গাজী শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আশাশুনি থানার উপ পরিদর্শক অনাথ মিত্র জানান, জাকির হোসেন টিটুকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তার পরিবার কেউ মৃত্যুর কারণ জানাতে পারেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এছাড়া সাতক্ষীরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নাজমুল গাজী নামের আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে।
আশাশুনি থানার ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ জানান, এ ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta