হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা নিয়ে প্রসিকিউশন পেতে যাচ্ছে তদন্ত রিপোর্টের খসড়া
জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্টের খসড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের কাছে এসেছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে।’
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সংঘটিত গণহত্যা, গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৩০০টিরও বেশি অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে জমা পড়েছে।
তিনি বলেন, এই অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই-আগস্টে গণ-আন্দোলন দমনে সংগঠিত হত্যা-গণহত্যা, বিগত ১৫ বছরে গুমের অভিযোগ এবং ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগ।
ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সরকার ও এর শীর্ষ কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও দলীয় ক্যাডারদের বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে এবং তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা ও বিচারের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, এসব অভিযোগের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, এর মধ্যে ৫০ জনের মতো আসামি গ্রেফতার হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে হাইকোর্টের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার নিয়োগ পান, এবং সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এর আগে চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যান, যা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরের অপশাসনের অবসান ঘটায়।
গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার এবং তার অনুগত প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। এসব অপরাধের বিচার হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
সূত্র : বাসস
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta