ইতিকাফের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল
রমজান মাসের শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করা একটি সওয়াবের কাজ। এটি সুন্নাহ অনুযায়ী হওয়া উচিত, তবে অনেক সময় ভুলের কারণে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ইতিকাফকারীকে জানতে হবে, ইতিকাফের সময় কি করা যাবে এবং কি করা যাবে না।
বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, নিয়ত ছাড়া ইতিকাফ সহিহ হবে না।
রমজান মাসের শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়াহ। যদি কোনো মসজিদে একজন ইতিকাফে বসেন, তাহলে এলাকার সবাই সুন্নত আদায় করবে। কিন্তু কেউ ইতিকাফ না করলে, সে এলাকায় সবাই সুন্নত তরক করার জন্য গুনাহগার হবে। বাহরুর রায়েক।
পুরুষের ইতিকাফ সহিহ হতে হলে, সেটি একটি জামে মসজিদে হতে হবে। মসজিদ ছাড়া ঘরে ইতিকাফ সহিহ হবে না। সুনানে আবু দাউদ।
ইতিকাফ একটি ইবাদত, যা বিনিময়ে পরিশ্রমী নয়। তাই ইতিকাফের জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ নয়। যদি কেউ পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ইতিকাফ করে, তবে তার ইতিকাফ সহিহ হবে না। হেদায়া ও রদ্দুল মুহতার।
যদি মসজিদে খাবার পৌঁছানোর জন্য কেউ না থাকে, তবে খাবার আনতে আপনি বাসায় যেতে পারবেন। এতে ইতিকাফ ভঙ্গ হবে না। তবে খাবার আনার জন্য মসজিদ থেকে বের হয়ে অন্য কাজের জন্য বিলম্ব করা যাবে না। তবে যদি খাবার প্রস্তুত না হয়, তবে কিছু সময় অপেক্ষা করা যাবে। বাহরুর রায়েক ও তাবয়ীনুল হাকায়েক।
ইতিকাফকারী যদি পেশাব-পায়খানার জন্য মসজিদের বাইরে যায়, তখন সালাম বিনিময় করা এবং অল্প কথাবার্তা বলা যাবে। এতে ইতিকাফের কোনো ক্ষতি হবে না। মিরকাতুল মাফাতিহ ও ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া।
পাঞ্জেগানা মসজিদে ইতিকাফকারী জুমার নামাজ আদায় করতে জামে মসজিদে যেতে পারে, তবে নামাজ শেষে বিলম্ব না করে ফিরে আসতে হবে। ফতোয়ায়ে আলমগীরী।
ইতিকাফকারী যদি রাতে বা দিনে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত সহবাস করে, তবে ইতিকাফ বাতিল হয়ে যাবে। হেদায়া ও কুদুরী।
মহিলাদের যে কক্ষে ইতিকাফ করতে হবে, সেই কক্ষটি তার নামাজের ঘর হিসেবে নির্দিষ্ট করতে হবে এবং পুরো ইতিকাফ সময় সেখানে অবস্থান করতে হবে। ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ও আদ্দুররুল মুখতার।
স্বামীর অনুমতি ছাড়া মহিলাদের ইতিকাফ করা জায়েজ নয়। মহিলাদের মাসিক শুরু হলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। ফতোয়ায়ে রহিমিয়া।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta