দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ঈদগড়ে অপহৃত ইমাম বাড়ি ফিরেছেন
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকা থেকে অপহৃত স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও বড়বিল ইবতেদায়ী নুরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান আজিজী মুক্তি পেয়েছেন। অপহরণকারীরা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল এবং সেই পরিমাণ টাকা পরিশোধের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তার পরিবার জানায়।
স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সিএনজি থামিয়ে যাত্রীদের মারধর ও লুটপাট চালায়। পরে তারা ইমাম আজিজুর রহমান আজিজীকে জোর করে পাহাড়ে নিয়ে যায়।
আজিজুর রহমান ও তার স্ত্রী শ্বশুরের জানাজায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ১২-১৫ জন অস্ত্রধারী তাদের আক্রমণ করে এবং অন্যান্য যাত্রীদের মারধর করে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয়। এরপর আজিজুর রহমানকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে মুক্ত করা হয়।
ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে অপরাধের বৃদ্ধি:
ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে এবং আশপাশের এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ ও চাঁদাবাজি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একাধিক সশস্ত্র অপরাধ ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এমতাবস্থায়, সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ঈদগড়-বাইশারী সড়কের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেংডেবা মুখ এলাকায় মহিষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আজিজ মিয়া জানান, তিনি গর্জনিয়া বাজার থেকে মহিষ কিনে পিকআপযোগে ঈদগাঁও যাচ্ছিলেন। পথে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত তাঁকে মারধর করে ২০ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দেয়ায় মহিষটি পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়।
এছাড়া, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঈদগড় বাজারের ব্যবসায়ী জাগের হোছাইন ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাওয়ার পথে অপহৃত হন এবং ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে মুক্ত করা হয়।
প্রশাসনের অবহেলা ও স্থানীয়দের উদ্বেগ:
সম্প্রতি একাধিক ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, ফলে স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় অপরাধীরা নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী দাবি করেছেন, ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং ডাকাতি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অপরাধ ঘটতে পারে। প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে সাধারণ জনগণ উদ্বিগ্ন।
পুলিশের পদক্ষেপ:
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমন কান্তি চৌধুরী বলেন, "অপহরণ ও ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। কোনো অপরাধী পার পাবে না।"
ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মছিউর রহমান বলেন, "ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে এবং দ্রুতই দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।"
স্থানীয়রা পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশিত: | By Symul Kabir Pranta